
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক, মডেলিং ও চলচ্চিত্র জগতে নব্বই দশকে যে ক’জন শিল্পী নিজস্ব উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন, তাদের অন্যতম মনির খান শিমুল। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং ও প্রযোজনাতেও কাজ করে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শোবিজ অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছেন। জন্মদিনে এই শিল্পীর প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটক ও বিজ্ঞাপনে মনির খান শিমুল ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। সে সময়ের দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন স্মার্ট, সাবলীল এবং আধুনিক অভিনয়ভঙ্গির একজন শিল্পী। বিভিন্ন নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে তার উপস্থিতি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রেও কাজ করেন তিনি। অভিনয় করেছেন ‘শ্যামল ছায়া’, ‘মহব্বত জিন্দাবাদ’, ‘নন্দিত নরকে’ ও ‘মনপুরা’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্র ‘মহব্বত জিন্দাবাদ’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি “শ্রেষ্ঠ নতুন মুখ (পুরুষ)” বিভাগে চলচ্চিত্র দর্শক পুরস্কার অর্জন করেন।
দীর্ঘ সময় মিডিয়ায় তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে আবারও অভিনয়ে ফিরে আসেন তিনি। প্রায় দুই দশক পর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং নতুন প্রজন্মের কাজেও যুক্ত হতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি।
ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ও সমসাময়িক নির্মাণেও মনির খান শিমুলকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে দর্শক। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তিনি নিজেকে বদলে নিয়েছেন সময়ের সঙ্গে। নাটক, সিনেমা কিংবা ওটিটি—সবখানেই তিনি অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে চলেছেন। ব্যক্তিজীবনেও তিনি নানা সময় সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছেন। ২০২৪ সালে তার মায়ের মৃত্যুসংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। সেখানে তাকে অভিনেতা, মডেল ও প্রযোজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অভিনয়ের জগতে দীর্ঘ পথচলার মধ্য দিয়ে মনির খান শিমুল আজও বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের এক পরিচিত নাম। জন্মদিনে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সৃজনশীল জীবনের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করছেন ভক্ত-দর্শকরা।