
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: হলিউডের প্রাথমিক ইতিহাসে যে ক’জন শিল্পী চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও মর্যাদার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মেরি পিকফোর্ড (Mary Pickford) ছিলেন অগ্রগণ্য। নীরব চলচ্চিত্র যুগের এই মহাতারকার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করছে বিশ্ব চলচ্চিত্রাঙ্গন।
১৮৯২ সালের ৮ এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া মেরি পিকফোর্ডের আসল নাম ছিল গ্ল্যাডিস লুইস স্মিথ। ছোটবেলা থেকেই তিনি মঞ্চনাটকে যুক্ত হন এবং খুব অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে ১৯০৯ সালে চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় এবং খুব দ্রুতই তিনি নির্বাক চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখে পরিণত হন।
তাঁর কোমল মুখশ্রী, আবেগঘন অভিনয়শৈলী এবং সহজ-সরল চরিত্রে প্রাণবন্ত উপস্থিতি তাঁকে দর্শকদের কাছে “America’s Sweetheart” হিসেবে পরিচিত করে তোলে। ‘Tess of the Storm Country’, ‘Rebecca of Sunnybrook Farm’, ‘Pollyanna’—এই ধরনের বহু চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পে পিকফোর্ড ছিলেন একজন প্রভাবশালী প্রযোজক ও উদ্যোক্তা। ১৯১৯ সালে তিনি চার্লি চ্যাপলিন, ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কস ও ডি. ডব্লিউ. গ্রিফিথের সঙ্গে মিলে “United Artists” প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিতরণের কাঠামো পরিবর্তন করে দেয়।
তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র ইতিহাসের প্রথম দিকের সবচেয়ে শক্তিশালী তারকাদের একজন, যিনি তার ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে সম্পূর্ণ সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছিলেন এবং অস্বাভাবিক জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সাফল্য লাভ করেছিলেন। ১৯২০ ও ৩০-এর দশকে তাঁর প্রভাব ছিল বিশ্বব্যাপী।
পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে ‘Coquette’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো অস্কার লাভ করেন এবং ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের জন্য সম্মানসূচক অস্কার পান।
১৯৭৯ সালের ২৯ মে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
চলচ্চিত্র ইতিহাসে মেরি পিকফোর্ডকে আধুনিক হলিউড ব্যবস্থার ভিত্তি নির্মাণে অন্যতম রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অবদান নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের সীমা ছাড়িয়ে আজও বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে। তিনি পর্দার নির্বাক যুগে নিজের উপস্থিতিতেই তৈরি করেছিলেন এক অনন্ত কাহিনি।
মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহীয়সী শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা৷