
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর আলোচনায় অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা কবির বিন সামাদ ।
সম্ভাব্য এই প্রার্থীকে নিয়ে স্থানীয় জনমনে যেমন কৌতূহল রয়েছে, দলীয় সংগঠনে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বর্তমান ইউনিয়ন সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম প্রার্থীর আলোচনায় থাকলেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কবির বিন সামাদকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকে।
কবির বিন সামাদ একজন বরেণ্য ইসলামীক কন্ঠশিল্পী, ইসলামীক বক্তা , সাংস্কৃতিক শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, ব্যক্তিজীবনে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছি। শৈশবে পিতা শিক্ষক আব্দুস সামাদ প্রয়াত হওয়ার পর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমার বেড়ে ওঠা। জীবনের কঠিন একটা সময়ে সময়ে প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর দেশে ফিরে শিক্ষাকতায় যুক্ত হয়েছি।
বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা নাভারনে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আকিজ কলেজিয়েট স্কুলে সাংস্কৃতিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এবং গঙ্গানন্দপুর ঠিকানা তানজিমুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা।
স্থানীয়দের প্রতিবেশীরা এই প্রতিবেদককে জানান, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার কারণে তিনি সকলের কাছে একটি পরিচিত মুখ। তাঁর প্রয়াত পিতার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কথাও অনেকেই উল্লেখ করেন।
তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও সেটিই একমাত্র নির্ধারক নয়। নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে প্রার্থীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, নির্বাচনী প্রচারণা, স্থানীয় ইস্যু, ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি জনপদ গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন। বীর শ্রেষ্ঠ
নূর মোহাম্মদ শেখ’র স্মৃতিবিজড়িত এই ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবামুখী নেতৃত্বের প্রত্যাশা থাকবে বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই প্রার্থীদের কর্মপরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তার সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররাই।