
জেলা গোয়েন্দা শাখা, পাবনার অভিযানে কলেজ ছাত্রের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ৫ জন আসামী গ্রেফতার
রওশন আলম, পাবনা জেলা প্রতিনিধিঃ ঘটনা পাবনা জেলার সদর থানাধীন সাহাপুর যশোদল সাকিনে মিজানুর রহমান (২১), আটঘরিয়া কলেজে এইচএসসি মানবিক বিভাগে লেখাপড়া করে। গত তারিখ ৩১/০১/২০২৪ খ্রিঃ সন্ধ্যা অনুমান ০৬:৩০ ঘটিকার সময় মোঃ মিজানুর রহমান এর মোবাইলে ফোন অপরিচিত অজ্ঞানামা একজন ব্যক্তি কল দিয়ে বাহিরে ডেকে নিয় আসে। একই তারিখ রাত্রী অনুমান ০৭:৪৫ ঘটিকার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা স্থান হইতে ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান এর বাবার মোবাইল নম্বর ডিসিষ্ট এর নম্বর দিয়ে ফোন করে বলে যে” তাহার ছেলে বিপদে পড়েছে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা না দিলে সমস্যা হবে। এর পরপরই অজ্ঞাতনামা আসামীগন ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান তার ব্যবহৃত নম্বর দিয়েই কল দিয়ে বলে যে, “বাবা তুমি টাকা দিয়ে দাও টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে”। তখন, ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান এর বাবা অজ্ঞাতনামা আসামীগণের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে ৫,০০০/- টাকা পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আবারও অজ্ঞাতনামা আসামী তাহার মোবাইলে কল দিয়ে তার ছেলের সাথে কথা বলতে চাইলে অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাহার ছেলের সাথে কলা বলতে না দিলে মিজানুর রহমানে বাবার সন্দেহ হয় ।এরপর ডিসিষ্ট মিজানুর এর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করার এক পর্যায়ে একই তারিখ রাত্রী অনুমান ০৯:৩০ ঘটিকার সময় অজ্ঞাতনামা স্থান হইতে অজ্ঞাতনামা আসামীগন ফোন দিয়ে বলে যে “তোর ছেলে হাসপাতালে রেখে গেলাম তুই পাবনা সদর হাসপাতালে যা” বলে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে পাবনা সদর থানার মামলা নং-০১ তারিখ ০২/০২/২০২৪ইং ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রজু হয়। মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকবর আলী মুনসী মহোদয়ের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন)জনাব মোঃ মাসুদ আলম এর তত্ত্বাবধানে এবং নেতৃত্বে ওসি ডিবি মোঃ এমরান মাহমুদ তুহিন, এসআই (নিরস্ত্র) বেনু রায়,কং/মো: রিমন হোসেন পিপিএম জেলা গোয়েন্দা শাখা পাবনা সহ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স উক্ত হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদ্ধঘাটন জন্য কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন আমিনবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী ১। মোঃ রাফিউল ইসলাম রাফি(২৩), ২। মোঃ ইয়াছিনআলী রাহাত(২৩) ৩। মোঃ নাঈম ইসলাম(২৪) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানাধীন রাধানগর ডিগ্রী বটতলা এলাকা হইতে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত অপর আসামী ৪। মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৯) ৫। মোঃ ইসতিয়াক মাহমুদ মিশন (২৪) আটক করা হয়। ধৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে,অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আসামী মোঃ রাফিউল ইসলাম রাফি এবং আসামী মোঃ ইয়াছিনআলী রাহাত, আসামী মোঃ নাঈম ইসলাম, মোঃ অনিক আহম্মেদ রিয়াদ ডিসিষ্ট মিজানুর রহমানকে অচেতন অবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে রেখে যায় এবং তারা ঘটনার পর হইতে পাবনা ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যায় এবং তাদের অপর সহযোগী আসামীরা পাবনা জেলায় আত্মগোপনে থাকে। ঘটনার দিন আসামী মোঃ রাফিউল ইসলাম রাফি তার মোবাইল ফোন দিয়ে ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান এর ফোনে কল করে তার বাড়ি হইতে পাবনা সরকারী এড্ওয়ার্ড কলেজের ডিগ্রী শাখার বাংলা বিভাগের পিছনে ডেকে নিয়ে আসে। উক্ত স্থানে আগে থেকেই আসামী মোঃ ইয়াছিনআলী রাহাত, মোঃ নাঈম ইসলাম, মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ, মোঃ ইসতিয়াক মাহমুদ মিশন, মোঃ লিমন ওরফে হাবু, মোঃ অনিক আহম্মেদ রিয়াদ, মোঃ সাইদুজ্জামান সজিব গন অবস্থান করছিল। ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান এড্ওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের পিছনে আসা মাত্রই সকল আসামী ডিসিষ্ট মিজানুর রহমানকে মারধর করতে থাকে।মারপিটের এক পর্যায়ে ডিসিষ্ট মিজানুর রহমান এর বাবার নিকট ডিসিষ্ট এর মোবাইল ফোন হতে আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম কল করে ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা দাবি করে এবং বলে টাকা না দিলে তোমার ছেলের সমস্যা হবে। পরবর্তীতে কয়েকবার আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম ডিসিষ্ট এর ফোন হতে ডিসিষ্ট এর বাবার ফোনে কল করে টাকার জন্য চাপ দেয় এবং মিজানুর রহমানকে মারধর করতে থাকে। মারধরের এক পর্যায়ে ডিসিস্ট মিজানুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামী শরিফুল ইসলাম শরিফ নিজেকে কবিরাজ দাবি করে ডিসিষ্টকে কবিরাজি চিকিৎসা প্রদান করে এবং বলে শালা ভং ধরছে, এমনিতে ঠিক হয়ে যাবে বলে গাছের ডাল দিয়ে ডিসিষ্ট এর শরিরে এলোপাথারি আঘাত করে এবং ডিসিষ্ট এর মাথায় ও মুখের ভিতর পানি ঢেলে দেয়। ডিসিষ্ট এর মুখের ভিতর পানি দিলে সে সঙ্গে সঙ্গে বমি করে আরো অসুস্থ্য হয়ে পরে তখন আসামী মোঃ রাফিউল ইসলাম রাফি, আসামী মোঃ ইয়াছিনআলী রাহাত, আসামী মোঃ নাঈম ইসলাম আসামী মোঃ অনিক আহম্মেদ রিয়াদ মিলে ডিসিষ্ট মিজানুর রহমানকে পাবনা সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।পরবর্তীতে মিজানুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইং ০১/০২/২০২৪ তারিখে পাবনা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। ধৃত আসামীদের নাম ঠিকানা: ১। মোঃ রাফিউল ইসলাম রাফি(২৩), পিতাঃ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সাং-চকছাতিয়ানী, থানাঃ পাবনা সদর, জেলাঃ পাবনা। ২। মোঃ ইয়াছিনআলী রাহাত(২৩), পিতাঃ মোঃ বনিইসরাইল, সাং-শালগাড়ীয়া নিকারীপাড়া, থানাঃ পাবনা সদর, জেলাঃ পাবনা। ৩। মোঃ নাঈম ইসলাম(২৪), পিতাঃ মোঃ আব্দুল গাফ্ফার, সাং-চকছাতিয়ানী, থানাঃ পাবনা সদর, জেলাঃ পাবনা। ৪। মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ(৩৯), পিতাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, সাং-রাধানগর নারায়নপুর, থানাঃ পাবনা সদর, জেলাঃ পাবনা। ৫। মোঃ ইসতিয়াক মাহমুদ মিশন(২৪), পিতাঃ মৃতঃ ইলিয়াস আলী, সাং-মধ্য শালগাড়ীয়া, সর্ব থানাঃ পাবনা সদর, জেলাঃ পাবনা। উদ্ধারকৃত আলামতের বর্ণনা: ১। তিনটি শুকনা গাছের ডালের ভাংঙ্গা অংশ। ২।আসামীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ৪ টি।