
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ কিংবদন্তি অভিনেতা কানু বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জন্মদিন। বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের ইতিহাসে তিনি এমন এক শিল্পী, যার অভিনয় বাস্তবতার শক্তিতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়-এর অমর সৃষ্টি পথের পাঁচালী এবং অপরাজিত-এ ‘হরিহর রায়’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
কানু বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৫ সালের ২০ জুন, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের যোধপুরে। পরবর্তীকালে তিনি বাংলা নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে অভিনয়জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন। নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ী-এর সান্নিধ্যে তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা ঘটে।
বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক, সংযত এবং গভীর মানবিকতায় ভরপুর। তবে তাঁর অভিনয়জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য আসে ‘হরিহর রায়’ চরিত্রে। পথের পাঁচালী-তে দরিদ্র কিন্তু স্বপ্নময় এক ব্রাহ্মণ পিতার চরিত্রে তিনি যে বাস্তব অভিনয় উপহার দিয়েছিলেন, তা আজও চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয় এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নতুন মর্যাদা এনে দেয়।
কানু বন্দ্যোপাধ্যায় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ নাট্যশিল্পী ও পরিচালকও ছিলেন। তাঁর অভিনয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অতিনাটকীয়তা পরিহার করে চরিত্রের অন্তর্গত আবেগকে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করা। এ কারণেই তাঁর অভিনয় আজও আধুনিক মনে হয়।
‘পথের পাঁচালী’ ও ‘অপরাজিত’-এর পাশাপাশি তিনি ভগবান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ, সাহেব বিবি গোলাম, নীলাচলে মহাপ্রভু, মহাশ্বেতা-সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলা চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৮৩ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি পরলোকগমন করেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো আজও জীবন্ত। বিশেষ করে ‘হরিহর রায়’ চরিত্রে তাঁর মুখচ্ছবি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।
কানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে এই মহান শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।