
ঝিকরগাছা(যশোর) প্রতিনিধি।
যশোরের ঝিকরগাছায় গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ কর্মযজ্ঞ সরেজমিন পরিদর্শন করে চলেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার।
ধারাবাহিক এই কর্মযজ্ঞ সরেজমিন পরিদর্শনে নিম্নমানের ইট-বালু ব্যবহার করায় তিনি তীব্রক্ষোভ প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে ভৎসনা ও তিরস্কার করেছেন।
নিম্নমানের কাজ বন্ধের পাশাপাশি ঠিকাদারি লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন এই সরকারি কর্মকর্তা।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের গুণগতমান বজায় রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই কঠোর মনোভাব ও নির্দেশনা সর্বমহলে ভুয়সী প্রশংসিত হয়েছে।
জানাগেছে, ২২জুন রবিবার দুপুরে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার উপজেলা ব্যাপি গ্রামীন অবকাঠামো নির্মাণ কাজের নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে গদখালী ইউনিয়নের মাঠপাড়া গ্রামে যান।
এসময় তিনি কাঁচা রাস্তার ইটেরসলিং কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়ে নিম্নমানের ইট-বালু প্রত্যক্ষ করেন। এসময় সেখানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন না থাকায় তিনি আশপাশ এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। এলাকাবাসীও এই কাজের গুণগতমান নিম্নমানের হওয়ায় তীব্রক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এসময় ঝিকরগাছাউপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার কাজের গুণগতমান বজায় না রাখলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজ বুঝে নিতে গ্রামবাসীকে অনুরোধ জানান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী জানান একপর্যায়ে ঠিকাদারের পক্ষের জনৈক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অসৌজন্যতামূলক আচরণ করেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত খবর পেয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম খান, গদখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ শরিফুল ইসলাম, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক কেএম ইদ্রিস আলী, গদখালী ইউনিয়ন জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও টিম সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ আনারুল ইসলাম, গদখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম আজাদী,গদখালী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মনজুরুল আলমসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এসময় জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ঠিকাদারী লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।
জানাগেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন জুড়ে এডিবি, কাবিখা,কবিটার অর্থায়নে গ্রামীণ অবকাঠামো কাঁচারাস্তা ইটের সোলিংকরণ, আরসিসি ঢালাই, পানি নিষ্কাশনে আরসিসি পাইপ লাইনস্থাপন, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ ঘিরে এই কর্মযজ্ঞ চলছে।
এই প্রকল্পের মধ্যে এডিবির অর্থায়ন প্রকল্পে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট-বালুসহ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের রাস্তা নির্মাণে গুরুতর এই অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালি সরকার উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লার উদ্ধৃতি করে জানান, গত ১৬/০৬/২৫ ইং তারিখে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে যশোর সদর পুলেরহাটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ মেসার্স নিউ যশোর মোটর ওয়ার্কশপ’কে এডিপির অর্থায়নে গদখালী ইউনিয়নের মাঠপাড়া এলাকার জনৈক চান্দালির বাড়ি থেকে আমিনুরের বাড়ি পর্যন্ত ১০৪মিটার কাঁচারাস্তার ইটের সোলিংকরণ কাজের গুণগতমানের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল।
কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোন কর্ণপাত করেনি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি বর্তমানে শংকরপুর ইউনিয়নে অবস্থান করছেন। এডিপির অর্থায়নে এখানে একটি রাস্তার ইটের সোলিংকরণ কাজের গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ঠিকাদারী কাজের গুণগতমান,স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরেজমিন কাজের তদারকি করার ঘটনা নজিরবিহীন ও অনন্য দৃষ্টান্তঘটনা অভিহিত করে তাকে ভূয়সীপ্রশংসা করেছেন। এব্যাপারে সচেতন এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ভালো কাজের নৈতিকসমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।