
রওশন আলম, পাবনা জেলা প্রতিনিধি- মাননীয় ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড. শামসুল হক টুকু-এমপি সাদা মনের উদার, সৎসাহসী, ন্যায়পরায়ন মানুষ। বৃহত্তর পাবনা জেলার একজন প্রগতিশীল স্বনামধন্য ব্যক্তি। তিনি উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠক, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বৃহত্তর পাবনাবাসীর পরিচিত মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি ৩১ মে ১৯৪৮ইং তারিখে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার বৃশালিকা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী বেড়া বি বি হাই স্কুল থেকে প্রাথমিক শেষ করে মাধ্যমিকে অধ্যয়ন কালেই আইয়ুব খাঁন সরকারের শাষণ ও শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও সোচ্চার হয়ে উঠেন। তখনকার সময়েই স্কুলে ছাত্রদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেন, যার ফলে তাকে (৩১-০৫-১৯৬৫) ফোর্স টিসি দেওয়া হয়। পরবর্তিতে তিনি সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসি (মাধ্যমিক) এবং বেড়া কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পরে থেকেই তার রাজনৈতিক জীবন গতি পায়। অত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুনামের সহিত (১৯৬৭-১৯৭৪) বি.কম অনার্স,এম.কম (ব্যবস্হাপনা), এম এ (সমাজবিজ্ঞান) ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯-১৯৭০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জিন্নাহ হল বর্তমানে শেরে বাংলা হল ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক(রাকসুর জিএস) নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শামসুল হক টুকু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম,মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।তিনি ভারতের দেরাদুম ক্যাম্প হতে যুদ্ধের প্রশিক্ষন নেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার বিভিন্ন স্হানে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন এবং নেতৃত্ব দেন।স্বাধীনতার সংগ্রামে তার ছোট ভাই শহীদ আব্দুল খালেক সম্মুখ যুদ্ধে শাহাদৎ বরন করেন। শামসুল হক টুকু ১৯৮৬-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বেড়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে পাবনা জেলা বার সমিতির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৯-২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল(বি.বি.সি) সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি ২০০৪-২০১৪ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সংগ্রামী এই নেতা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে নীপিড়ন,নির্যাতন ও কারা বরণের শিকার হয়েছেন।১৯৬৮-১৯৬৯ সালে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কারের নোটিস প্রাপ্ত হন।১৯৬৯ সালে আইয়ুব খাঁন বিরোধী ছাএ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কারাবরণ করেন।১৯৬৯ সালে শেখ মজিবুর রহমান এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে সেনাদের গুলি বর্ষনে আহত হন এবং গ্রেফতার হন।১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করায় গ্রেফতার হোন এবং ০২(দুই)বছর কারাবরণ করেন।স্বৈরাচার এরশাদ হটাও আন্দোলন করায় তাক গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি ০৩(তিন)মাস কারাবরন করেন।২০০০-২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি জোট সরকারের নির্যাতন,নিপিড়ন,হত্যা,গুম ও জুলুমের বিরুদ্ধে বঙ্গনেএী,বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তিনি ১/১১ সময়ে জননেএী শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেছেন।১/১১সময়ে তিনি নেএীর মুক্তির দাবিতে রাজপথে,মিছিল/মিটিং এ অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।যার উপহারস্বরুপ নেএী তাকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে নৌকার মাঝি করেছিলেন।২০০৮ সালে ২৪ ডিসেম্বর সাঁথিয়া কলেজ মাঠে নৌকার নির্বাচনি সমাবেশে নেএী ফোন কনফারেন্সে বলেছিলেন নৌকা প্রতিকে টুকু সাহেবকে বিজয়ী করলে তিনি সাঁথিয়া-বেড়া বাসীকে পুরষ্কৃত করবেন।নবম সংসদ নির্বাচনে টুকু সাহেব নিজামীক পরাজিত করে বিজয়ী হন।বিজয়ী হওয়ার পর প্রথমে তিনি এমপি হিসাবে শপথ নেন।পরবর্তিতে নেএী সাঁথিয়া-বেড়া বাসীকে উপহার স্বরুপ টুকু সাহেবকে বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।তার উপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।পরবর্তিকালে সততার উপহার হিসাবে নেএী টুকু সাহেবকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে স্থানান্তর করেন।শামসুল হক টুকু সাহেব স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসাবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশব্যাপি প্রসংসিত হন।মন্ত্রী হওয়ার পর পাবনা জেলা সহ সারা দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পুলিশে নিয়োগ দেন।আমাদের এলাকায় অনেক অবিবাহিতা মেয়েকে পুলিশে চাকরি দিয়ে বিয়ের ব্যবস্হা করেছেন।বৃশালিকা গ্রামের অনেক পরিবার আছে,যাদের তিনি চাকরী দিয়ে সংসারে আলো ফুটিয়েছেন।তার বুদ্ধিগুণের কারনে ৫ই মে হেফাজতের মহাসমাবেশ পন্ড করতে সক্ষম হয় পুলিশ।এছাড়াও বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন এবং হরতাল,অবরোধ কঠোর হস্তে দমন করেছেন।মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কোন অপশক্তির কাছে মাথানত করেননি।মানবতা বিরোধীদের মামলার রায় তার সময়েই কার্যকর হয়েছে।তার মাঝে দুর্নীতির কোন লেস ছিল না।স্বজনপ্রীতি নয়,সততাই ছিল তার মহৎ গুন।সততার জন্য নেএী তাকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বদলীয় সরকারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব দেন।৫ই জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে টুকু সাহেব নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে সংস্কারবাদী সাঈদের তালা মার্কাকে পরাজিত করে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন।পুনরায় এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এবং এলাকায় বিভিন্ন সভা,সমাবেশ,উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নেতা কর্মীকে উজ্জিবিত করছেন।