
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পথিকৃৎ, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও চিত্রনাট্যকার নীতিন বসুর মৃত্যুবার্ষিকী আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তিনি ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ১৮৯৭ সালের ২৬ এপ্রিল, ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির হাওড়া অঞ্চলের দাশনগরে।
নীতিন বসু ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রাথমিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা, যিনি নিউ থিয়েটার্স, বোম্বে টকিজ এবং ফিল্মিস্তান-এর মতো বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। বাংলা ও হিন্দি—উভয় ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। বিশেষ করে ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে তাঁর কাজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভাষা ও প্রযুক্তিগত দিককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
চলচ্চিত্র ইতিহাসে নীতিন বসুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর একটি হলো প্লেব্যাক গানের প্রথম সফল ব্যবহার। ১৯৩৫ সালে তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র “ভাগ্য চক্র” (বাংলা) এবং এর হিন্দি সংস্করণ “ধূপ ছাঁও”-এ প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক গান ব্যবহৃত হয়, যা পরবর্তীতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংগীত উপস্থাপনার ধারা সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে “গঙ্গা যমুনা” বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এই চলচ্চিত্রটি ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবিক সম্পর্কের গভীর চিত্র তুলে ধরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। চলচ্চিত্র নির্মাণে তাঁর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাঁকে সমকালীন অন্যান্য নির্মাতাদের থেকে আলাদা করে তোলে।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নীতিন বসু ১৯৭৭ সালে ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সম্মাননায় তিনি ভূষিত হন।
নীতিন বসুর পরিবারও শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে ছিলেন বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এবং অন্যান্য প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যা তাঁকে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের সাহস এবং চলচ্চিত্র ভাষার বিকাশে অবদান তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নীতিন বসু—ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অবিস্মরণীয় পথিকৃৎ।