
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি – বাংলাদেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন—সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে।
সংগীতজীবনের সূচনা ও উত্থানঃ
১৯৩৫ সালের ৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করা মাহবুবা রহমান খুব অল্প বয়স থেকেই সংগীতচর্চা শুরু করেন। মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর সংগীতজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে (All India Radio) গান রেকর্ড করেন এবং ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ তিনি ছিলেন ১৯৫৬ সালে নির্মিত প্রথম বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর প্লেব্যাক শিল্পী।
চলচ্চিত্র ও সংগীতে অবদানঃ
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তিনি চলচ্চিত্র সংগীতে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মনে দোলা দেয়। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—আসিয়া, কখনো আসেনি, সাত ভাই চম্পা, সূর্য স্নান, নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রভৃতি। এছাড়াও তিনি রেডিও ও চলচ্চিত্র উভয় মাধ্যমেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন।
পারিবারিক জীবনঃ
মাহবুবা রহমান ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা, সংগীতজ্ঞ ও নির্মাতা খান আতাউর রহমান-এর স্ত্রী। তাঁদের কন্যা রুমানা ইসলাম নিজেও একজন সুপরিচিত সংগীতশিল্পী, যিনি মায়ের সংগীত ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন।
সম্মাননা ও স্বীকৃতিঃ
বাংলাদেশের সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৮ সালে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি সামার দাস সঙ্গীত পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
প্রয়াণে শোকঃ
মাহবুবা রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতের সোনালি যুগের স্মৃতিগুলো, আজও বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে তিনি চিরকাল একজন পথিকৃত শিল্পী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।