
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু–এর জন্মদিন আজ। ১৯৮০ সালের ৩০ এপ্রিল নড়াইল জেলায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের নাট্যাঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন।
সুমাইয়া শিমুর আসল নাম সুমাইয়া রহমান শিমুল। তিনি খুলনা ও ঢাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
১৯৯৯ সালে টেলিভিশন নাটক “এখানে আতর পাওয়া যায়” দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন শিমু। একই বছর বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেও তিনি দর্শকের নজর কাড়েন।
২০০৮ সালে প্রচারিত জনপ্রিয় নাটক “স্বপ্নচূড়া” তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয় এবং এই নাটকের জন্য তিনি
Meril-Prothom Alo Awards-এ সেরা টিভি অভিনেত্রী (জনপ্রিয়) পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি দীর্ঘ সময় ধরে House Full, প্রজাপতি মন, Radio Chocolate, Lake Drive Laneসহ বহু নাটকে অভিনয় করে ছোট পর্দার অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন।
চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও ২০০৪ সালে Bachelor ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় কাজ করেন।
সময় বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিমু ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ শুরু করেন। নুহাশ হুমায়ূন পরিচালিত “Dui Shaw” সিরিজের “Besura” পর্বে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও পুনরায় আলোচনায় আসেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সমাজকর্মী হিসেবেও পরিচিত। ২০১৯ সালে “Better Future for Women” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করে।
এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা Relief International-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে কাজ করেছেন।
২০১৫ সালে তিনি নাজরুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে তিনি যমজ সন্তানের জননী হন—যা তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় সূচিত করে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফিরলেও পারিবারিক জীবন ও মাতৃত্বকে সময় দেওয়ার জন্য তিনি বেছে বেছে কাজ করছেন। তবুও তাঁর অভিনয় প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব এখনও দর্শকের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
সুমাইয়া শিমু কেবল একজন অভিনেত্রী নন—তিনি একাধারে শিক্ষিত, সচেতন এবং সমাজমনস্ক একজন শিল্পী। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক উদ্যোগ মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন জগতের এক অনন্য নাম।
জন্মদিনে এই গুণী অভিনেত্রীর প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও শুভকামনা—তার শিল্পযাত্রা আরও দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ হোক।