
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি।
ঝিকরগাছার গদখালীতে কথিত ধর্ষণের ঘটনায় মামলার বাদি সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুমের বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসা, বহু বিবাহ, একাধিক ধর্ষন মামলাসহ অসংখ্য অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। গত (১৬মার্চ) গদখালীতে ৪যুবকের সাথে ওই নারী চুক্তিতে দেহ ব্যবসা করতে যায়। পরবতীতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করলে একে একে ওই নারীর কু-কৃত্রি বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
একের পর এক বিতর্কিত এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে গ্রামের সুনাম ক্ষুন্ন করায় সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুমের বিচার দাবি করেছেন মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর গ্রাম, বর্তমান স্বামীর বাড়ি বেনাপোল গয়ড়া ও কথিত খালা বড়আচঁড়া গ্রামের মানুষ। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুমের বর্তমান স্বামী বেনাপোলের গয়ড়া গ্রামের পান্না মিয়ার ছেলে পারভেজ হোসেন (১৭) বলেন, স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুম ওরফে রোজা বয়সে অনেক বড়। তার সাথে পারভেজের এক বন্ধু মোবাইলে প্রেম করতো। ঘটনা ক্রমে বন্ধুর মোবাইলে টাকা না থাকায় একদিন পারভেজের মোবাইল দিয়ে সেই বন্ধু সুমাইয়া কুলছুম ওরফে রোজার সাথে কথা বলে। এর পর ২দিন পারভেজের কাছে ২দিন ফোন দেয় ওই নারী। এবংকথাও হয়। এতেই কিশোর পারভেজকে পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিবাহ করতে বাধ্য করে সুমাইয়া কুলছুম ওরফে রোজা। পারভেজের মা হালিমা খাতুন, প্রতিবেশি আমিনুর রহমান, মহসিন আলী, বাবরুর রহমান,নাসির উদ্দিন সেলিনা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন বলেন,
বিবাহের পর থেকেই ওই নারী অবাধ্য ছিল। নিজের ইচ্ছামত আসা-যাওয়া করতো। এছাড়া একই গ্রামের রামকৃষ্ণেরছেলে হরিপদ বাগদির সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পারভেজ বাড়ি না থাকার সুযোগে একদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে হরিপদ বাগদির সাথে দেখা করতে গিয়ে গ্রামবাসির হাতে ধরা পড়ে সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুম ওরফে রোজা। এছাড়া বড়আঁচড়া গ্রামের পাতানো খালু শাহাজান মোল্লা, খালাতো বোন নাজমা খাতুন বলেন, সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুম ওরফে রোজা একেক স্থানে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেকে পরিচয় দেয়। কয়েকমাসপূর্বে বেনাপোল কাগজপুকুর এলাকা থেকে ২টি মোবাইল ফোন চুরি করে ওই বাড়িতে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টিজানাজানি হলে, তারা ওই নারীকে ধরিয়ে দেয়। সেই থেকে সেখানে আর আসেনি।
এছাড়া সম্প্রতি মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মাছ ক্যাম্প এলাকায় পৌছালে সুমাইয়া খাতুন কুলছুম ওরফে রোজার একাধিক অপরাধের ফিরিস্থি বেরিয়ে আসে। মাছ ক্যাম্পের পাশের বেশ কয়েকজন গ্রামবাসি জানান, গ্রামের সবাই তাকে কুলছুম নামে চেনে। ইতিপূর্বে তাকে সুমাইয়া কুলছুম ওরফে রোজাকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশি আব্দুল কাদেরের ছেলে মারুফ হোসেনের নামে তার মা মামলা করেছিলেন। যা সুমাইয়া কুলছুমের মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামবাসির সহযোগিতায় টাকা পয়সা লেনদেনের মাধ্যমে মিমাংসা করা হয়। পরে ওই মামলার আসামী মারুফ হোসেন লোকলজ্জার ভয়ে মালয়েশিয়া চলে যেতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেসুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুম বলেন, প্রেমজ সম্পর্ক করে যশোর সদরের উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের সুজলপুর (জামতলা) গ্রামের ওলিয়ার রহমানের সাথে তার বিবাহ হয়। সেখানে তাদের সাদিয়া খাতুন নমের ২বছরের একটি কণ্যা শিশু রয়েছে। সম্প্রতি সে পূর্বের স্বামী ওলিয়ার রহমানকে তালাক দিয়ে শার্শা উপজেলার গয়ড়া গ্রামের পান্না মিয়ার ছেলে পারভেজ হোসেন নামের এক যুবককে বিবাহ করেছে। গত ১৬মার্চ ঝিকরগাছার গদখালীতে ৪যুবকের সাথে চুক্তিতে যাওয়ারপূর্বে সকালে বর্তমান স্বামীর বাড়ি গয়ড়া থেকে বের হয়। এরপর বেনাপোল বড়আঁচড়া গ্রামের শাহাজাহান মোল্লা স্ত্রী শাহিনুর খাতুন নামের তার এক দুঃসম্পর্কের খালা বাড়িতে গিয়েছিল সুমাইয় খাতুন ওরফে কুলছুম ওরফে রোজা। পরে দুপুরের দিকে গদখালী বাজারে আসে ওই নারী। সেখানে পরিচয় হওয়া ৪যুবকের সাথে চুক্তিতে অবৈধ মেলামেশা (দেহ ব্যবসায়) করতে যাওয়ার কথাও শিকার করে কসুমাইয়া কুলছুম। তবে বেনাপোলে সেই খালাকে তার পিত্রালয়ের হরিহরনগরের কেউ চেনে না। সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলেও সেদিন সুমাইয়া কুলছুম সেখানে যাননি বলে জানান পাতানো খালু ও খালাতো বোন। সুমাইয়া কুলছুমের পিতা টুকুমিয়া হরিহরনগরে শ্বশুর মৃতঃ আব্দুল মজিদের (ঘরজামাই) জামাতা। তার দাদাবাড়ি ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় বলে জানান সুমাইয়া কুলছুম।
জানতে চাইলে সুমাইয় খাতুন ওরফে কুলছুমের রিকশাচালক বড়ভাই লিটন হোসেন বলেন, সে সুমাইয়া কুলছুম বাড়ির কারো কথা শোনে না। ইচ্ছামত যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াই। সে নিজেই একাধিক বিবাহ করেছে। সে ভাইয়েরদের কোন কথা শোনে না সে একজন অবাধ্য মহিলা।
হরিহরনগর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান ও গ্রাম পুলিশ রুহুল কুদ্দুস বলেন, টুকু মিয়ার ২ছেলে যশোরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। ওদের মায়ের মৃত্যুর পর বাবাও অন্যাত্র বিবাহ করে চলে গেছেন। ওদের ছোট বোনকে সুমাইয়া খাতুন নামে গ্রামে কেউ চেনে না। ওর আসল নাম কুলছুম। সে নিজের ইচ্ছামত চলাফেরা করে। ভাইদের কথা শোনো না বলেও জানান। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিকট প্রতিবেশি কয়েকজন নারী-পুরুষ বলেন, ওর নাম কুলছুম, সুমাইয়া বা রোজা নয়, সে নিজের ভাইদেরসহ পাড়া প্রতিবেশিদেরও অবাধ্য। ইচ্ছামত যেখানে সেখানে চলে যায়, আবার ইচ্ছামত আসে। ঝগড়াটে ও চরিত্রহীন সুমাইয়া কুলছুমের একেরপর এক এহেন কাজের তদন্তপূর্বক শাস্তিরও দাবিও করেন তারা।
উল্লেখ্য, গত (১৬মার্চ) ঝিকরগাছার গদখালীতে ৪যুবকের সাথে চার হাজার টাকা চুক্তিতে অবৈধ মেলামেশা (দেহ ব্যবসা) করতে যায় সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুম ওরফে রোজা। পরে ওই চার যুবক টাকা কম দেয়ায় ৯৯৯ এ তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এই মর্মে ফোন দিয়ে পুলিশের ডাকে। পরে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ গদখালী থেকে ২বছরের কণ্যা শিশুসহ ওই নারীকে উদ্ধার ও চার যুবককে আটক করে। পরে সুমাইয়া খাতুন ওরফে কুলছুমের দায়ের করা মামলায় তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আবু সাঈদ বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামীদেরকে আটক করা হয়েছিল। পরে ভিকটিমের করা মামলা