
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ৮ জুন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার পার্থ ঘোষের জন্মদিন। বাংলা ও হিন্দি—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই থ্রিলার ও সামাজিক ড্রামা ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজগুলো নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার ধারাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।
পার্থ ঘোষ জন্মগ্রহণ করেন ৮ জুন ১৯৪৯ সালে কলকাতায়। পরবর্তী জীবনে তিনি মুম্বাই চলচ্চিত্র জগতে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে একজন সহকারী পরিচালক থেকে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
তিনি মূলত হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করলেও বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
পার্থ ঘোষের পরিচালিত প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৯১ সালের চলচ্চিত্র ‘ওয়ান হান্ড্রেড ডেজ’ (১০০ ডেজ) দিয়ে, যা একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার হিসেবে দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর তিনি একের পর এক বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র উপহার দেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—ওয়ান হান্ড্রেড ডেজ (১৯৯১, গীত (১৯৯২), দালাল (১৯৯৩), তিসরা কৌন (১৯৯৪), অগ্নিসাক্ষী (১৯৯৬), গুলাম-এ-মুস্তাফা (১৯৯৭)। বিশেষ করে ‘অগ্নিসাক্ষী’ এবং ‘দালাল’ চলচ্চিত্র দুটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়।
পার্থ ঘোষের চলচ্চিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—থ্রিলার ও সাসপেন্সের শক্তিশালী ব্যবহার, সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে বাণিজ্যিক বিনোদনের মিশ্রণ, রিমেক ও অভিযোজনভিত্তিক গল্প বলার দক্ষতা
তাঁর অনেক চলচ্চিত্রই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত বা রিমেক হলেও তিনি সেগুলোকে বলিউড দর্শকের উপযোগী করে উপস্থাপন করতে পারতেন।
২০০০ সালের পর তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে কাজ করেন। তাঁর শেষ দিকের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মওসুম ইকরার কে, দো পাল পেয়ার কে’ (২০১৮)।
পার্থ ঘোষ ৯ জুন ২০২৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক থ্রিলার যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
পার্থ ঘোষ মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে থ্রিলার ঘরানাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বাণিজ্যিক সিনেমার ভেতরে গল্প বলার ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজ বহু নতুন পরিচালককে প্রভাবিত করেছে এবং বলিউডে সাসপেন্স-ড্রামা ঘরানার বিস্তারে সহায়তা করেছে।
জন্মদিনে পার্থ ঘোষকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই।