
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ২৪ জুন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেত্রী রওশন আরা-এর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে তিনি প্রারম্ভিক যুগের নারী শিল্পীদের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেও স্মরণীয়।
রওশন আরার জন্ম ১৯৪০ সালের ৩ আগস্ট পাবনায়। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘ডেইজি’। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও নড়াইলে। তিনি পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক এবং সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকার তৎকালীন মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজে (বর্তমান Sir Salimullah Medical College) ভর্তি হন এবং চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও শিল্পকলার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তাঁকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসে। মহিউদ্দিন পরিচালিত ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র মাটির পাহাড়-এর মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যে নদী মরুপথে, সূর্যস্নান, নতুন সুর, নদী ও নারী, ময়নামতি এবং মেঘের অনেক রং বিশেষ করে ‘ময়না মতি’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
রওশন আরার ব্যক্তিজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি বন্দে আলী মিয়া ছিলেন তাঁর ভগ্নিপতি। এছাড়া কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন-এর সঙ্গে তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব ছিল বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রায় আড়াই দশক ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করার পর তিনি অভিনয়জগৎ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসেন। ২০১০ সালের ২৪ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে রাজধানীর মিরপুর-১১ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রওশন আরা ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের শিল্পীদের একজন, যাঁদের হাত ধরে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা আজও স্মরণীয়।
রওশন আরার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।