
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
ভোরের বৃষ্টির জলে
ভিজে নিমফুল
বর্ষার জলের প্রহারে
ভাঙে নদীর কূল।
গাঙচিল শিকার বিঁধিয়ে
উড়ে যায় অদূরে
কুমারের মাটির পুতুলগুলো
সাজানো রঙিন মাদুরে
গৃহবধূর তুলতুলে হাতে
গড়া সমুদ্রকলি
খোকাখুকি খেলাচ্ছলে
গায়ে মাখে ধুলোবালি।
কাঠবিড়ালি লুকালো
ডালিম পাতার আড়ে
দুষ্টুছেলে গুলতি মারল
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে।
চলছে রাহী অবাধে পথ
রৌদ্রময় দুপুরবেলা
ঘোলাটে মেঘলাদিনে মাঝনদীতে
পালতোলা নৌকার খেলা।
ঐ কৃষ্ণচূড়ার গর্ভে
জড়ো হয়েছে কোকিল
তখন গানের তরে
প্রজাতির রঙ ঝিলমিল।
শেষ বিকেলে রৌদ্রের হাসি
দেখেছে ক্লান্ত জোনাকি
চৈত্রের যামিনীতে জোছনা নেই
এ যেন চাঁদের ফাঁকি।
দুরন্তপনা দখিনা হাওয়ায় দুলে
লাউ আর কুমড়ো লতা
মুসাফিরের ক্লান্তি হনন করেছে
বটের ঝিলিমিলি পাতা।
পানকৌড়ি জল চিড়ে
চলেছে হিজলবনে
রাখাল মেঘ দেখে
ছুটল গাঁয়ের পানে।
মাছরাঙা, কাকাতুয়া
লুকোচুরি খেলছে কাশবনে
শরতে ফুটেছে শিউলিফুল
সুবাস ছড়াল মনে।