
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলঅভিনেতা, প্রযোজক এবং অ্যাকশনধারার অন্যতম সংগঠক মাহবুব খান গুই-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা। তিনি শুধু একজন ভিলেন চরিত্রের অভিনেতাই ছিলেন না, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ঘরানার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একজন সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও স্মরণীয়।
মাহবুব খান গুই-এর প্রকৃত নাম ছিল মাহবুব-উল আলম খান। ১৯৫১ সালের ১০ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম। চলচ্চিত্রে তিনি “গুই” নামেই অধিক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে হাসমত পরিচালিত এখানে আকাশ নীল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে খলচরিত্র, অ্যাকশনধর্মী চরিত্র এবং পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে তিনি দোস্ত দুশমন, বারুদ, ওস্তাদ সাগরেদ, জনি, আক্রোশ, মাসুদ রানা, শত্রু, সারেন্ডার, অগ্নিপুরুষ, লালু মাস্তান, কাজের বেটি রহিমা, গরীবের ওস্তাদ এবং রাজা নাম্বার ওয়ান-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর শক্তিশালী পর্দা উপস্থিতি এবং মারমুখী অভিনয় তাঁকে দর্শকদের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
মাহবুব খান গুই কেবল অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি নায়ক জসিম, আমান ও বাবুলের সঙ্গে মিলে “জ্যাম্বস প্রোডাকশন্স প্রাইভেট লিমিটেড” প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত হয় বহু ব্যবসাসফল অ্যাকশন চলচ্চিত্র। এছাড়া তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং এক সময় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আধুনিক অ্যাকশন দৃশ্য নির্মাণ ও স্টান্ট সংস্কৃতির বিকাশে “জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ”-এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন মাহবুব খান গুই। তাঁদের উদ্যোগে দেশীয় চলচ্চিত্রে অ্যাকশন দৃশ্য নতুন মাত্রা লাভ করে এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ঘরানার জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
পর্দায় ভয়ংকর ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবে ছিলেন চলচ্চিত্রশিল্পের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাহবুব খান গুই-এর নাম অ্যাকশনধর্মী সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি মাহবুব খান গুই। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আপনার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভিলেন মাহবুব খান গুই-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি: বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশনধারার এক অগ্রপথিক
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলঅভিনেতা, প্রযোজক এবং অ্যাকশনধারার অন্যতম সংগঠক মাহবুব খান গুই-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা। তিনি শুধু একজন ভিলেন চরিত্রের অভিনেতাই ছিলেন না, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ঘরানার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একজন সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও স্মরণীয়।
মাহবুব খান গুই-এর প্রকৃত নাম ছিল মাহবুব-উল আলম খান। ১৯৫১ সালের ১০ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম। চলচ্চিত্রে তিনি “গুই” নামেই অধিক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে হাসমত পরিচালিত এখানে আকাশ নীল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে খলচরিত্র, অ্যাকশনধর্মী চরিত্র এবং পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে তিনি দোস্ত দুশমন, বারুদ, ওস্তাদ সাগরেদ, জনি, আক্রোশ, মাসুদ রানা, শত্রু, সারেন্ডার, অগ্নিপুরুষ, লালু মাস্তান, কাজের বেটি রহিমা, গরীবের ওস্তাদ এবং রাজা নাম্বার ওয়ান-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর শক্তিশালী পর্দা উপস্থিতি এবং মারমুখী অভিনয় তাঁকে দর্শকদের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
মাহবুব খান গুই কেবল অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি নায়ক জসিম, আমান ও বাবুলের সঙ্গে মিলে “জ্যাম্বস প্রোডাকশন্স প্রাইভেট লিমিটেড” প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত হয় বহু ব্যবসাসফল অ্যাকশন চলচ্চিত্র। এছাড়া তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং এক সময় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আধুনিক অ্যাকশন দৃশ্য নির্মাণ ও স্টান্ট সংস্কৃতির বিকাশে “জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ”-এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন মাহবুব খান গুই। তাঁদের উদ্যোগে দেশীয় চলচ্চিত্রে অ্যাকশন দৃশ্য নতুন মাত্রা লাভ করে এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ঘরানার জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
পর্দায় ভয়ংকর ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবে ছিলেন চলচ্চিত্রশিল্পের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাহবুব খান গুই-এর নাম অ্যাকশনধর্মী সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি মাহবুব খান গুই। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আপনার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।