
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ বাংলাদেশের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা রবিউল আলম-এর জন্মদিন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এমন এক শিল্পী, যিনি পর্দায় উপস্থিত হলেই দর্শকদের মুখে হাসি ফুটত। ষাট, সত্তর ও আশির দশকে তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কৌতুকাভিনয়ের এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিলেন। শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের একটি স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন।
রবিউল আলম ১৯৩৯ সালের ৯ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা ঘটে ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র আকাশ আর মাটি-এর মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হন।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতাদের মধ্যে রবিউল আলম ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয়। তাঁর অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য ছিল সহজাত হাস্যরস, প্রাণবন্ত সংলাপ উপস্থাপন এবং স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি। তিনি শুধু দর্শকদের হাসাতেন না, বরং গল্পের ভেতরে সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক অনুভূতিকেও তুলে ধরতেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত ছিল।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নীল আকাশের নিচে, চৌধুরী বাড়ী, আলোর মিছিল, গুণ্ডা এবং ছুটির ঘণ্টা। এসব চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
চলচ্চিত্র গবেষক ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রবিউল আলম শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর সময়ে কৌতুক অভিনয়কে তিনি শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং চলচ্চিত্রের গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত করেছিলেন।
১৯৮৭ সালে এই গুণী শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু মৃত্যুর বহু বছর পরও তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে সমানভাবে স্মরণীয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের কৌতুকাভিনেতাদের আলোচনা হলে রবিউল আলমের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো আজও পুরোনো সিনেমাপ্রেমীদের নস্টালজিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
জন্মদিনে এই কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।