
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম, এক সময়ের পর্দা কাঁপানো নায়ক চিত্রনায়ক ওয়াসিম। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ৭০ ও ৮০ দশকের জনপ্রিয় এই তারকার মৃত্যুবার্ষিকী প্রতি বছরই চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ওয়াসিমের প্রকৃত নাম ছিল মেজবাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনে তিনি ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং বহু বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমার নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
চলচ্চিত্রে আগমন ও জনপ্রিয়তা: ওয়াসিম প্রথম দিকে বডিবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন এবং ১৯৭৩ সালে “রাতের পর দিন” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই ছবির সাফল্য তাকে দ্রুতই তারকাখ্যাতি এনে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি “দি রেইন”, “দোস্ত দুশমন”, “জিঘাংসা”, “বাহাদুর”, “সওদাগর”, “রাজ দুলারী”, “নরম গরম” সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত ছবিগুলো একসময় ঢাকাই সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল।
বহুমুখী প্রতিভা: ওয়াসিম শুধু অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি সহকারী পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রথম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং বডিবিল্ডিং ফেডারেশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন—যা তাকে চলচ্চিত্রের বাইরে একটি ভিন্ন পরিচিতি দেয়।
ব্যক্তিজীবন ও উত্তরাধিকার: ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তার পরিবার চলচ্চিত্র ও সামাজিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও আলোচনায় এসেছে। তবুও তার চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক অবদানই তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
মৃত্যু ও শোক: ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে ও বিভিন্ন মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
উত্তরাধিকার: চিত্রনায়ক ওয়াসিম বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন এক নাম, যিনি অ্যাকশন ও বাণিজ্যিক সিনেমার স্বর্ণযুগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করা হয় এক জন দক্ষ, পরিশ্রমী এবং সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে—যিনি ঢাকাই সিনেমার একটি যুগকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
তার স্মৃতি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এক নস্টালজিয়া, এক অধ্যায়—যা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে।