
নিজস্ব প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সরকার কর্তৃক বন্দোবস্ত দেওয়া জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ঠেপিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা বদরুজ্জামান মিলন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আছিয়া খাতুন। এ ঘটনায় জমি ফেরতের দাবিতে তিনি ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
বুধবার বিকেলে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আছিয়া খাতুনের পরিবারের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আছিয়া খাতুন বলেন, “মধ্যনগর ব্রীজের পূর্ব পাশে জামালপুর মৌজার ৭১ নম্বর দাগে ১ একর জমি সরকার ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে আমার বাবা মো. জাহেদ আলী ও মা মনোয়ারা খাতুন কুলসুমের নামে বন্দোবস্ত দেন। এরপর থেকে আমরা নিয়মিতভাবে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে টেপিরকোণা গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি বদরুজ্জামান মিলন ও তার সহযোগীরা জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।”
তিনি আরও বলেন, “খবর পেয়ে আমি এলাকায় ফিরে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তার আগেই রাতের আঁধারে তারা জমিতে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে। পরে আমি প্রতিবাদ করলে তারা উক্ত জমির মালিকানা দাবি করে। মিলন গং আর্থিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে, যাদের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামে ভূমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমিও দখলে রেখেছে। আমার জমি থেকে ঘর সরাতে বললে মিলন আমার একমাত্র ছেলে রুবেল ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।”
মানববন্ধনে আছিয়া খাতুন প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে নির্মিত ঘরটি অপসারণ ও ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বদরুজ্জামান মিলন বলেন, “এই জমির বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। কিছু লোক আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।”