
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাতে নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক।
অসুস্থতা ও শেষ সময়:
জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তার খাদ্যনালিতে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং কয়েক দফা কেমোথেরাপিও নেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মৃত্যুর আগের দিন তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বাসায় নেওয়া হয়, সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিনয়জীবন:
তারিকুজ্জামান তপন ছিলেন ছোটপর্দা ও চলচ্চিত্রের এক পরিচিত মুখ। বিশেষ করে কৌতুক চরিত্রে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—আলতা বানু, ঠিকানা, যা ছিল অন্ধকারে, জোড়া শালিক
হাতছানি প্রভৃতি৷
তার অভিনয়ে ছিল সহজাত স্বাভাবিকতা ও প্রাণবন্ত হাস্যরস, যা তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয় দর্শকদের কাছে।
শোকের আবহ:
তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে আসে শোকের ছায়া। সহকর্মী, ভক্ত এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষজন তাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনয়শিল্পী সংঘ এক শোকবার্তায় তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
মূল্যায়ন:
তারিকুজ্জামান তপনের প্রয়াণে বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ হারালো এক প্রাণবন্ত অভিনেতাকে—যিনি হাসির আড়ালে জীবনের গভীরতা তুলে ধরতে পারতেন। তার অভিনয়, সংলাপের সহজাত গতি এবং চরিত্র নির্মাণের দক্ষতা তাকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।
একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি শুধু চরিত্রে প্রাণ দিতেন না—তিনি দর্শকের মনে তৈরি করতেন এক বিশেষ অনুভূতি। সেই অনুভূতির নামই হয়তো—তপন।