
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেতা বিনোদ খান্নার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং বহুমুখী চলচ্চিত্রজীবন বলিউড ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
বিনোদ খান্না জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালে, পেশোয়ারে (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত), এবং পরে ভারত বিভাগের পর তাঁর পরিবার মুম্বাইয়ে স্থায়ী হয়। তিনি ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। শুরুতে তিনি পার্শ্ব চরিত্র ও খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করলেও অল্প সময়েই তিনি দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নেন।
১৯৭০-এর দশকে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে “মেরা গাঁও মেরা দেশ”, “আমার আকবর অ্যান্টনি”, “পরবরিশ”, “দোস্তানা” এবং “মুসলমানি” ধরনের বহু জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে অ্যাকশন ও রোমান্টিক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
একসময় তিনি বলিউডের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় নায়কদের একজন ছিলেন এবং অমিতাভ বচ্চনের সমসাময়িক তারকা হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়ে অভিনয় জগত থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেন। তবে কিছু বছর পর তিনি আবার চলচ্চিত্রে প্রত্যাবর্তন করেন এবং “চাঁদনি”, “দাবাং”, “ওয়ান্টেড”, “দিলওয়ালে” ইত্যাদি ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেন।
তিনি শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চলচ্চিত্র ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান তাঁকে বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ৭০ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক শূন্যতা তৈরি করে।
মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করা হয় তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব, স্টাইল, গভীর অভিনয় এবং ভারতীয় সিনেমায় অবদানের জন্য। ভক্ত ও সহকর্মীরা আজও তাঁকে “বলিউডের ড্যাশিং হার্টথ্রব” এবং “বহুমুখী অভিনেতা” হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখেন।
চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিনোদ খান্না এমন এক নাম, যিনি নায়কোচিত আকর্ষণ ও অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে এক প্রজন্মের দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।