
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি – বিনোদন সাংবাদিক ::
আজ ভারতীয় বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও চিন্তাশীল প্রাবন্ধিক অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের ৯১তম জন্মদিন। তিনি ১৯৩৩ সালের ৬ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। রচনার প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য, মনীষা, এবং সংবেদনশীলতায় তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
তিনি শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা শেষ করে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৫৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭১ সাল থেকে তিনি জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউট অনুষদে শিক্ষকতা করেছেন।
তিনি সাহিত্য জীবনে ২০টিরও বেশি কবিতা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ গ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে যৌবন বাউল (১৯৫৯), নিষিদ্ধ কোজাগরী, রক্তাক্ত ঝরোখা (১৯৬৯), ছৌ-কাবুকির মুখোশ (১৯৭৩), গিলোটিনে আলপনা (১৯৭৭), দেবীকে স্নানের ঘরে নগ্ন দেখে (১৯৮৩), মরমী করাত (১৯৯০), আলো আরো আলো (২০০৯), সেকি খুঁজে পেল ইশ্বরকণা (২০১২), নিরীশ্বর পাখিদের উপাসনালয়ে (২০১৩), এখন নভোনীল আমার তহবীল (২০১৪), প্রবন্ধের মধ্যে শিল্পিত সমাজ (১৯৬৯), অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে প্রেমে পরবাসে (১৯৮৩), অঙ্গীকারের কবিতা (১৯৭৭) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তিনি তাঁর মৌলিক গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি বাংলা ও সাঁওতাল কবিতা ও নাটক ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং জার্মান ও ফরাসি সাহিত্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাঁর স্বতন্ত্র গদ্যশৈলীর জন্য তিনি সুপরিচিত৷
তিনি সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন। তাঁর মধ্যে গ্যেটে পুরষ্কার, আনন্দ পুরষ্কার, রবীন্দ্র পুরষ্কার, সাহিত্য একাডেমি পুরষ্কার প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
তিনি ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর জার্মানির হির্শবার্গে পরলোকগমন করেন।
আজ কবির ৯১ তম জন্মদিনে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
