
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে:
যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশ শিশু সন্তান সহ এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। হৃদয়বিদারকে এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে।তথ্য মিলেছে শ্বশুরবাড়ির জমি নিয়ে ভাই বোনের মধ্যেকার বিরোধ ও মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে রেবেকা খাতুন (২৬) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশী ও পুলিশ দুই সন্তানের জননী নিহত রেবেকা ও তার দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তান সোহরাব হোসেনের লাশও একই সাথে ঘরের আড়াই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে স্কুলে থাকাই অত্যাচারের শিকার অভিমানী মায়ের আক্রোশের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেছে তার বড় সন্তান জুঁই খাতুন (১০)।
জুঁই শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।
মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার (০৯) সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে। নিহত রেবেকা খাতুন ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে জনি মিয়া (৩০)’র স্ত্রী। তার বাপের বাড়ি শার্শা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাপের বাড়ির লোকজন ছুটে আসেন।
নিহতের বোন শাফিহা খাতুন,ভাবি সাবিহা বেগম ও খালাতো ভাই রবিউল ইসলামের দাবি রেবেকাকে তার স্বামী হত্যা করেছে। প্রতিবেশী ও পারিবারিক একাধিক সূত্রের দাবি জনি মিয়া ভবঘুরে বেকার ও ইয়াবাসক্ত। সে বিভিন্ন সময়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীর প্রাপ্য দেড় বিঘা জমি বিক্রির ৩০লাখ টাকা নষ্ট করেছে। আরো জমি বিক্রি করে টাকা দিতে স্ত্রীর উপর অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল।
ঝিকরগাছা থানার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জনি মিয়াকে হেফাজতে নিয়েছেন।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি আত্মহত্যা। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া। প্রতিবেশী ও নিহত রেবেকার বোন শাফিয়া, খালাতো বোন মারিয়া শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়াই ঝুলানোর পর দ্বিতীয় ওড়নায় মা ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট ও মামলার তদন্তে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে বলে পুলিশ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া।
খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার ও জনি মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।