
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ৩ মে—বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম Karl Freund–এর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮৯০ সালের ১৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক ১৯৬৯ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা মনিকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কার্ল ফ্রউন্ড ছিলেন এমন এক চলচ্চিত্রকার, যিনি ক্যামেরাকে শুধু রেকর্ডিং যন্ত্র হিসেবে দেখেননি—বরং এটিকে গল্প বলার সক্রিয় মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি “Unchained Camera” বা মুক্ত ক্যামেরা ধারণার পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে ক্যামেরা ট্রাইপড থেকে মুক্ত হয়ে চলমান হয়ে ওঠে। এই উদ্ভাবন আধুনিক সিনেমার ভিজ্যুয়াল ভাষাকে আমূল বদলে দেয়।
বোহেমিয়ার (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্র) ছোট শহর থেকে উঠে এসে তিনি বার্লিনে চলচ্চিত্রজগতে প্রবেশ করেন। জার্মান এক্সপ্রেশনিস্ট সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে তার অবদান ছিল অসামান্য।
তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—Metropolis (১৯২৭), Dracula (১৯৩১), The Mummy (পরিচালক হিসেবে)।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং হলিউডে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
শুধু সিনেমা নয়, টেলিভিশন মাধ্যমেও কাল ফ্রউন্ড যুগান্তকারী অবদান রাখেন। জনপ্রিয় সিরিজ I Love Lucy–এর মাধ্যমে তিনি থ্রি-ক্যামেরা সিস্টেম ও নতুন আলোকসজ্জা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, যা আজও টিভি প্রোডাকশনের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি Academy Award (Oscar) অর্জন করেন (Best Cinematography, The Good Earth, ১৯৩৭) প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি নিজের কন্যাকে নাৎসি নির্যাতন থেকে বাঁচিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন—যা তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
কার্ল ফ্রউন্ড শুধু একজন চিত্রগ্রাহক নন—তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র ভাষার এক বিপ্লবী নির্মাতা। আজকের চলমান ক্যামেরা, ডায়নামিক শট, এবং টেলিভিশনের মাল্টি-ক্যামেরা ফরম্যাট—সবকিছুর পেছনে তার চিন্তা ও পরীক্ষার ছাপ স্পষ্ট।
তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন শিল্পীকে স্মরণ করা নয়—বরং চলচ্চিত্রের বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানানো।