
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি – বিনোদন সাংবাদিক ::
আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জসিম এর ২৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ৭০, ৮০ ও ৯০ এর দশকে প্রথমে খলনায়ক ও পরে নায়ক হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি একাধারে নায়ক, প্রযোজক ও ফাইট ডিরেক্টর ছিলেন।
নায়ক জসিম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম আব্দুল খায়ের জসিম উদ্দিন।
তিনি ১৯৭২ সালে কিংবদন্তি নায়ক, অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক আজিম এর হাত ধরে দেবর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এদেশের চলচ্চিত্র জগতে আসেন। তিনি ১৯৭৩ সালে নায়ক রাজ্জাক অভিনীত ও জহিরুল হক পরিচালিত রংবাজ চলচ্চিত্রে ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে প্রখ্যাত পরিচালক দেওয়ান নজরুল পরিচালিত দোস্ত দুশমন চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮২ সালে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত পরিচালিত সবুজ সাথী চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। খল চরিত্রে অভিনয় জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নায়ক হিসেবেই অভিনয় করেন এবং নায়ক হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পান। সেই সাথে খ্যাতি ও তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তিনি তাঁর সময়ের প্রায় সকল জনপ্রিয় নায়িকাদের বিপরীতে অভিনয় করেন। তবে শাবানা ও রোজিনা সাথে তাঁর জুটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। চলচ্চিত্রে তিনি মূলত অ্যাকশনধর্মী, প্রতিবাদী যুবক বা শোষণ, বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি চরিত্রেই অভিনয় করতেন। তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অ্যাকশনের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে দেবর, রংবাজ, ডাকু মনসুর, দোস্ত দুশমন, ভাইবোন, এপার ওপার, এক মুঠো ভাত, নিশান, আসামী হাজির, তুফান, সবুজ সাথী, নাজমা, অভিযান, রকি, লালু মাস্তান, স্যারেন্ডার, বাংলার নায়ক, স্বামী কেন আসামি, স্বামীর আদেশ, গরীবের সংসার, গরীবের মাস্তান, আখেরী মোকাবেলা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
সংসার জীবনে তিনি ড্রিমগার্লখ্যাত চিত্রনায়িকা সুচরিতার সঙ্গে প্রথম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে এদেশের প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ এর নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে রাতুল, রাহুল ও সামি নামে তিন পুত্র সন্তান রয়েছে।
নায়ক জসিম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে রণাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এফডিসিতে বীরমুক্তিযোদ্ধা জসিম ফ্লোর নামে একটি ফ্লোরের নাম করণ করা হয়।
তিনি ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর ব্রেণ স্ট্রোক করে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
আজ তাঁর ২৫ তম মৃত্যু দিবসে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
